বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার সার্ভিসের ডাক্তারদের বৈষম্য প্রতিরোধের ডাক

Posted by

স্বাস্থ্য প্রতিদিন: গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার সার্ভিস এসোসিয়েশনের আহ্ববায়ক ডাক্তার মোহাম্মাদ নেয়ামত হোসেন এক প্রতিবাদ লিপি পাঠ করেন। প্রতিবাদ লিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকুরিবিধি পরিবর্তন করে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে অবৈধভাবে একটি গোষ্ঠীকে এনক্যাডারমেন্ট করা এবং তাদেরকে ক্যাডার সার্ভিসের প্রচলিত সকল বিধি পরিবর্তন করে পদোন্নতি প্রদানের সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে জাতিকে পথ দেখানো বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আর এক নেতা তানিয়া নাসরিন গণমাধ্যমে বলেন -‘ ক্ষতিগ্রস্থ ক্যাডার সার্ভিসের ডাক্তাররা এখনো কোন প্রমোশন পাননি।’ তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন তিনি সকল যেগ্যতাসম্পন্ন হবার পরও তিনি দীর্ঘ পনের বছর সার্ভিস করছেন কিন্তু এখনো তিনি মেডিকেল অফিসার পদে রয়ে গেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন আর কিছু বছর পর আমি অবসরে যাবো। কিন্তু চাকুরীতে এই অবহেলা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এদিকে আয়োজক নেতাদের প্রতিবাদদে হল প্রকম্পিত হয় । সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার তানিয়া বলেন, প্রায় বিশ হাজার স্বাস্থ্য ক্যাডার সর্ভিসের ডাক্তাররা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তিনি আরও বলেন ২৮ বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার সার্ভিসের ডাক্তার থেকে শুরু করে এই বৈষম্যের শিকার হবেন সবাই।

এক অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে, অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ৯৮৯ জন চিকিৎসকে প্রমার্জনা দিয়ে স্থায়ী ও জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে বৈষম্যের শিকার হবেন বলে মনে করছেন বিসিএস পাস করা ক্যাডারভুক্ত চিকিৎসকেরা। বিসিএস পাস করা ক্যাডারভুক্ত চিকিৎসকেরা অভিযোগ করছেন, অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়া কিছু চিকিৎসককে সুবিধা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভুল তথ্য দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। আদালতে একটি চলমান মামলার কথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। ২০১০ সালে ৩ হাজার ৫৫১ জন ও ২০১১ সালে ৫৮২ জন মোট ৪ হাজার ১৩৩ জন চিকিৎসককে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাঁদের পদ ছিল মেডিকেল কর্মকর্তা, গ্রেড ছিল নবম। এঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। ১ হাজার ৯৮৯ জনের মধ্যে কেউ বিসিএস পরীক্ষা দেননি, কেউ কেউ বিসিএস পাস করতে পারেননি বা কারও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বয়স ছিল না। তাঁরা অ্যাডহক অবস্থায় চাকরিতে থেকে গেছেন। এই ১ হাজার ৯৮৯ জনকে ২০১৪ সালে নন- ক্যাডার পদে নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ করা হয়। চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলেও সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ তাঁদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই ৪৩০ জনকে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিসিএস পাস করে ক্যাডারভুক্ত হন। বিসিএস পাস করা কেউ কেউ এখনো নবম গ্রেডের কর্মকর্তা, অধিকাংশ সপ্তম গ্রেডের কর্মকর্তা। এমনকি ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তা এখনো সপ্তম গ্রেডে আছেন। অন্যদিকে অ্যাডহকের কর্মকর্তার পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার নজিরও আছে। কেউ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপ- কর্মসূচি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে ৪৯৩টি। এর মধ্যে প্রায় ১০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা অ্যাডহকে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। এসব উপজেলায় বিসিএস পাস করা এবং অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে একধরনের দ্বন্দ্ব চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে ত্রুটি চাকরি স্থায়ী করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তিনটি চিঠি গেছে। সর্বশেষ চিঠিতে চিকিৎসকদের চাকরি স্থায়ীকরণের শর্তাবলি প্রমার্জন করার অনুরোধ করা হয়। এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জন্য চলতি বছরের ৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খালেদ আহমেদুর রহমান। চিঠিতে তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিথ্যা তথ্য দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*