বিজেপির শয়তানি টিকলো না এবার, বাংলা আবার মা মাটি মানুষের মমতা দিদির

Posted by

কোলকাতা প্রতিনিধি: এই বাংলার কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন ‘আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’। সেই বাংলায় দাঁড়িয়ে বার বার মোদি-শাহরা ‘ইসলাম ফোবিয়া’ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। মেরুকরণ করার চেষ্টা চালিয়েছেন। বলার চেষ্টা করেছেন, তৃণমূল বা কংগ্রেস জিতলে হিন্দুরা কোনঠাসা হবে। কিন্তু সে কথা কানে তোলেনি বঙ্গবাসী। তাই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উত্তরবঙ্গ আলাদা হবে। ভিনরাজ্য হবে দার্জিলিং। এই স্লোগান দিয়ে ভোট বৈতরণী পারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্লোগানই ব্যুমেরাং হয়েছে। বাংলার মানুষ ভাবতেই পারে না বাংলা আবার ভাঙবে। বিজেপি ক্ষমতাশালী হলে বঙ্গভঙ্গ হতে পারে, এই আতঙ্কেই গেরুয়া শিবির থেকে মুখ ফিরিয়েছে তারা। মাছে-ভাতে বাঙালি। সময়-সময় পাঠার মাংস, মুরগির মাংস এমনকী অন্য মাংসও চলে। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অহিন্দুরা শ্রাবণ মাসে মাছ খায় না।’ সেই মন্তব্যকে বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ম করে প্রতি জনসভায় সেই মন্তব্য শোনাতেন তিনি। আর রাজ্যের বাসিন্দারা এই বাঙালি বিদ্বেষ মোটেও ভালোভাবে নেননি। একুশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণের খেসারত দিয়েছিল মোদি-শাহরা। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই ‘ভুল’ থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু দিলীপ ঘোষ. অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অসীম সরকাররা লাগাতার বেলাগাম মন্তব্য করেছেন। কুৎসিত ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়েছেন। কখনও মমতার মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়েছেন, কখনও তাঁর পরিবার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা মোটেও ভালো চোখে দেখেনি রুচিশীল বাঙালি। ভোটবাক্সে যার জবাব দিয়েছেন তাঁরা। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো একের পর এক প্রকল্পে টাকা আটকানোর অভিযোগ উঠেছে মোদির সরকারের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, বাংলা টাকার হিসেব দেয় না। তাই কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। কিন্তু সেই ইস্যুকেই বিজেপির বিরুদ্ধে কাজে লাগায় তৃণমূল। দাবি করে, একুশে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত হয়ে বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছেন মোদি-শাহরা। হাতিয়ার হয় শুভেন্দু-সুকান্তদের মন্তব্যও। বাংলার মানুষ প্রতি বিজেপির এই বঞ্চনা মেনে নিতে পারেনি বঙ্গবাসী। ভোটবাক্সে তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান। তিনি মা-মাটি-মানুষের প্রতিনিধি। তাই আমজনতার কথা ভেবে একের পর এক জনমুখী প্রকল্প এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী থেকে শুরু করে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড, সমুদ্রসাথী- একের পর এক জনকল্যাণকর প্রকল্প এনেছেন তিনি। চব্বিশের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক ভাতা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার টাকা। জনজাতিদের জন্য ১২০০ টাকা। আর তাতেই বাজিমাত। একুশে পর চব্বিশেও বিজেপির মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*