সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে ঝুলছে ভিকারুননিসা স্কুলের ১৬৯ শিক্ষার্থীর জীবন

Posted by

শিক্ষা প্রতিদিন: সময় প্রতিদিনের প্রতিবেদকের কাছে একজন অভিভাবক জানান – ‘ আমরা তো কোন কারচুপির আশ্রয় নেই নাই। বয়সের ব্যাপারটা আগেই সমাধান হয়ে গিয়েছিল। দুই মাস ক্লাস করিয়ে কেন আমাদের বাচ্চাদের ভর্তি বাতিল করা হলো? মাউশি এবং ভিকারুন্নেসা দুই পক্ষের সিদ্ধান্তেই আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি নিয়েছে। লটারিতে অন্যান্য স্কুলেও আমাদের বাচ্চাদের নাম এসেছিল। ওই স্কুলগুলোতে ভর্তি না করে আমাদের বাচ্চাদের আমরা ভিকারুন্নেসা স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম। লটারিতে নাম আসার পর, আমাদের বাচ্চাদের বার্থ সার্টিফিকেট চেক করে ফাইনাল ভর্তি নিয়েছে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জন্ম নেয়া শিশুরা কেন্দ্রীয় লটারির অধীন সারাদেশের ৩৮৪৫ টি স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে পারলেও ভিকারুন্নেসা স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না! এক দেশে কয় নিয়ম থাকবে? আইনের মারপ্যাঁচে আমাদের বাচ্চাদের ভর্তি বাতিল হল। শাস্তি আমরা পেলাম, যারা সত্যিকারের অপরাধী, যাদের অদক্ষতায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তারা কি কেউ শাস্তি পেয়েছে? ক্লাস ওয়ান এ সব স্কুলেই ভর্তি কমপ্লিট। এখন আমার বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব?’ তিনি আরো জানান, মাউশির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমরা ডিজিটাল লটারিতে এপ্লাই করেছি যেটা সারা বাংলাদেশের সব স্কুলের জন্য প্রযোজ্য ছিল, লটারি হওয়ার আগে ভিকারুন্নেসা স্কুল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা দিয়েছিল কিনা সেটা দেখার সুযোগ আমাদের হয়নি, আমরা মাউশির সার্কুলার দেখে লটারিতে এপ্লাই করেছি। ডিজিটাল লটারিতে আমাদের বাচ্চাদের নাম আসার পর আমরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দিই, কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার জন্য স্কুলের নির্দেশনা মোতাবেক। তখন জানতে পারি স্কুল কর্তৃপক্ষ ডিসিশন নিয়েছে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের জন্ম নেওয়া বাচ্চাদেরকে তারা ভর্তি করবে, স্কুল ডিসিশন নিয়েই কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে আমাদের বাচ্চাদেরকে ভর্তি নিয়েছে।

অভিভাবকের মধ্যে আর একজন জানান, এখন ক্লাস ৩ মাস চলমান, আমাদের বাচ্চাদের অন্য কোথাও ভর্তি করার উপায় নাই, সব স্কুল মাউশি এর নিয়ম এ ভর্তি সম্পন্ন করে ফেলেছে। যারা ওয়েটিং এর ৩-৪ নং লিস্ট এ ছিল তারা তো বসে নাই, অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে, কিন্তু এই ১৬৯ জন বাচ্চা জীবনের শুরুতেই লেখা পড়ার সু্যোগ থেকে বঞ্চিত হবে যদি তাদের ভর্তি বাতিল করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*