লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কটি যেন মরণফাঁদ

Posted by

শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট / দেশ প্রতিদিন: লালমনিরহাট-বুড়িমারী আন্তঃর্জাতিক মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে যারা চলাচল করেন তারা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলেন। মহাসড়কটির প্রতিটি পদে পদে ক্রুটিপূর্ণ কানা বাঁক, রেলক্রস, আঁকাবাঁকা। পুলিশ পোটকল নিয়ে চলা মন্ত্রীও এই সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে অল্পতে প্রাণ বেঁচে যায়। গত ১০ দিনে ৫ জনের মৃত্যু ও ৫০ জন আহত হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলা সদর ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তর চতুর্থ দেশীয় আন্তঃর্জাতিক স্থলবন্দরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক। জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পহেলা মার্চ ১০ দিনে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহা সড়কে ট্রাক, বাস ও কার্ভাটভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৫ জনের , আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কাকিনায় একটি নৈশকোচ উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়, এতে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জন। একই দিনে জেলার বুড়িমারী আন্তঃর্জাতিক সড়কের পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় আমিনুর রহমান (৩০) ও সহিদার রহমান (৫০) নামের দুই পথচারি পথচারী নিহত হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুল্লাহ(১২) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিনিময় ফিলিংস স্টেশনের সামনে ২২ চাকার লরির চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনা স্থলে মারা যায়। হাড়িভাাংঙ্গার তালিমুল ইনসান কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়িতে বুগিমারী সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় ফরিদুল ইসলাম (২৮) নামে এক ট্রলিচালক নিহত হয়। গত ২৯ ফেব্রæয়ারি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় বুড়িমারী সড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী ৫ কলেজ শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের একজন সোহেল অনার্স পরীক্ষার্থী মারা যায়। এছাড়াও কয়েক বছর আগে এই মহা সড়কের লেওয়ে ক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মোতাহার হোসেন এমপির গাড়ি দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রাণে রক্ষায় পেয়ে যায় মন্ত্রী। কয়েক বছর পাটগ্রামের বুড়িমারীতে ট্রাকের চাপায় দুই পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যায়।

১৯৮৮ সালে সড়ক ও জনপদের রাস্তা ঘোষনা করা হয়। রাস্তাটি নির্মাণের সময় দ্রæতগতির যানবাহন চলাচলে গতি জড়তা, প্রতিটি মোড় প্রায় ৪৫ ডিগ্রী এ্যাংগেল, ঘরবাড়ি গাছপালা থাকায় একপাশ হতে অন্য পাশে দেখার কোন উপায় নেই। লালমনিরহাট টু পাটগ্রাম রেল লাইন টি আন্তঃর্জাতিক মহা সড়কটির উপর দিয়ে ১৪ বার ক্রস করেছে। ১টিও রেলক্রসিংয়ে রেল কর্মী নেই। রাস্তায় ৩৫টি জায়গায় এমন ভাবে রাস্তাটি চলে গেছে সেখানে সৃষ্টি হয় গতিজড়তা। জেলার প্রধান এই সড়কটির ২০/২৫টি জায়গায় গ্রামীণ অঞ্চলিক সড়ক এসে সংযোগ দিয়েছে। ৪৫ ডিগ্রী এ্যাগেলের প্রতিটি মোড় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশাল আকারের লরি গুলো এখানে ঘুরতে গিয়ে সমস্যায় পরে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোড় শহরের মিশনমোড়, সাপ্টীবাড়ি মোড়, কাকিনা মোড়, উত্তরবাংলা মোড়, তুষভান্ডার হাই স্কুল মোড়, হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড়, পাটগ্রাম কলেজ মোড়, পাটগ্রাম বাইপাস মোড় প্রভূতি। এসব মোড় আল্লাহর উপর নির্ভর করে যানবাহনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে লালমনিরহাট জেলাকে নিয়ে পৃথক পরিকল্পনার কথা সরকার ভাবে। সেই সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল তিস্তা নদীর উপর পৃথক সড়ক সেতু ও লালমনিরহাট টু বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কটি ফোর লেন করার। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এসে নেতারা প্রতিশ্রুতি দেয় ফোর লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় হয়েছে। এভাবে গড়িয়ে গেছে ২৮ বছর। লালমনিরহাট টু বুড়িমারী ফোর লেন হয়নি। তিস্তা নদীর উপর নির্মাণ হয়েছে দুইটি সেতু। আওয়ামীলীগ সরকারে রয়েছে টানা চতুর্থবারের মত ক্ষমতায়। এবার অন্তত ফোর লেন রাস্তাটি হবে জনতা আশা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*