এ দায় কার ?

Posted by

রেজা নওফল হায়দার, সময় প্রতিদিন: গতবছর এবং তার পরের বছর জাতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দৃশ্য দেখেছে। দেখেছে বহু নর নারীর আর্তনাদ। বীভৎস লাশ। স্বজনদের আহাজারি। মাসের শুরুতেই জাতি প্রত্যক্ষ করলো আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে কাচ্চি ভাই নামক রেস্টুরেন্টে বিশেষ ছাড়ের কারণে উপচে পড়েছিল সেদিন ভীড়। সস্তা নামক কমিশনের ফাঁদে ফেলে মানুষ ডেকেছিল তারা। কিন্তু সেই ফাঁদ এত বড় হবে আগত কাস্টমাররা বুঝে উঠতে পারেননি। যা হবার তাই হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র মতে মূলত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেছে ওই বিল্ডিংয়ের নির্দিষ্ট একটি ফ্লোরে। সেই আগুন ছড়িয়ে গেছে সবখানে। আমরা হারিয়েছি তরতাজা ৪৭ টি প্রাণ। ডাক্তার ভাষ্যমতে যারা এখনো আহত অবস্থায় আছেন তাদের অবস্থা ভালো না। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ মৃত্যু দায় কার? সহজ ও প্রত্যক্ষ ভাষায় যদি বলি এ মৃত্যু দায় সরকারের নির্দিষ্ট এজেন্সির। টাকার মত্ত নেশায় আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বিশেষ সুযোগ করে দেয়ার ফলাফল হলো এই মৃত্যু। প্রত্যেকবার রাজধানীর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন অগ্নিকাণ্ড ঘটে তখন বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। শুরু হয় নানান গবেষণা ও তদন্ত। মোটা দাগে তখন সবাই বলে এই বিল্ডিং “বিল্ডিং কোড” মেনে তৈরি হয়নি সেফটি সিকিউরিটি বলে কিছুই ছিল না। আমার জানামতে প্রত্যেকটি সরকারি এজেন্সির নির্দিষ্ট পরিদর্শক আছে। তাদের কাছে বিল্ডিং নির্মাণ ও সেফটি সিকিউরিটির সার্টিফিকেট নিতে হয়। তাহলেই গাফিলতি দায় কার? অবশ্যই সরকারের। সরকারের ব্যর্থতা। বেইলি রোডের এই ঘটনায় সেই পুরাতন ফরমেটেই কিছুদিন পর বিভিন্ন নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশ পাবে বিল্ডিং এর অমক ছিলনা তমক ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানা যায় এখানে বের হওয়া সিঁড়ি ছিল খুবই সংকীর্ণ। একটা অভিজাত এলাকায় একটা বিল্ডিং তৈরি হয়ে গেল নির্দিষ্ট সনদ ছাড়া। বিষয়টা কেমন ভুতুড়ে না। আসলেই ভুতুড়ে। এই রহস্য লুকিয়ে আছে প্রশাসনের মধ্যেই। যেখানে ঘুষ আর দুর্নীতির আখড়া। বড্ড নির্মম হলেও সত্য, এই দুর্নীতিবাজদের আপনজন যখন এরকম নির্মম অগ্নিকাণ্ডের শিকার হবেন তখন মনে হয় সবথেকে বড় পরিহাস স্রষ্টার। স্রষ্টা হয়তো মুচকি হেসে বলবেন কেমন দিলাম। নিউজ সংগ্রহ করতে গিয়ে যে ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে আমার প্রতিনিধি তা তাকে অনেকটা মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। পুলিশ প্রধানের দৃঢ় প্রত্যয়ের কণ্ঠস্বর সাময়িক কষ্ট হয়তোবা প্রশমন করবে। কিন্তু আমার খুব সন্দেহ হয় তিনিইবা কতটুকু পারবেন এই থলের বিড়ালকে বের করতে। কারণ প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে যে দুর্বল অংশগুলো জড়িত থাকে তার ভাগ-বটোরা করে নেয় সবাই। নিউজটি লেখবার সময় হাতে আরও বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত এসেছে। সেখানে সুকৌশলে কাচ্চি ভাইয়ের রেস্টুরেন্টের দোষ কেন জানি ইগনোর করা হচ্ছে। এ আরেক চালাকির কৌশল। বিষয়টা এমন “রোম ইজ বার্নিং নিরো ইজ সিঙ্গিং”, পুরে সবাই ছারখার হয়ে গেলেও কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট ছিল অক্ষত তাদের সবকিছু মেনে চলেছে এমনটা ভাব। ধাপ্পাবাজি আর ধান্দাবাজি কারে বলে। যাইহোক সময় বলে দিবে প্রতিকার কি। হয়তো স্রষ্টার মুচকি হাসির অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। তাহলে যদি জাতি, সাধারণ মানুষের জীবনের ন্যূনতম দাম থাকে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বেইলি রোডের সাততলা গ্রিন কোজি কটেজ শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে ২৬ নারী ও তিন শিশুসহ ৪৪ জন নিহত এবং ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গ্রীন কোজি কটেজ শপিং মলে দোকান এবং খাবারের দোকান যেমন একটি কাচ্চি ভাই, একটি স্যামসাং শোরুম, গ্যাজেট এবং গিয়ার, ইলিয়াইন, খানস এবং পিজ্জা ইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*