শেখ হাসিনার পরে কে – বিশেষ প্রতিবেদন

Posted by

রাজনীতি প্রতিদিন: জয় সংকর ও হাসান মাহমুদ যে বৈঠক চলছে সেই তালিকায় হয়তো এই বিষয়ে পরোক্ষ কথা হবে। এই তালিকার শেষ এন্ট্রি-টি এমন একটি ইস্যু, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে দুদেশের মধ্যে কখনোই কথাবার্তা হয় না। কিন্তু সম্প্রতি এই প্রশ্নটাকে ঘিরে অনানুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া আলোচনায় জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।আর সেই ইস্যুটা হল – শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হবেন কে বা কারা?১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনার বয়স এখন ৭৬-র ওপরে। পাঁচ বছর বাদে যখন বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা, তখন তার বয়স একাশি পেরিয়ে যাবে। কিন্তু তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালে বা তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবেন, সেটা নিয়ে শেখ হাসিনা এখনও স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি। এই বিষয়টা ভারতকে ইদানীং সামান্য অস্বস্তিতে রেখেছে।ভারতের একজন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, “বিগত প্রায় তিন দশক ধরে ভারত বাংলাদেশে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের ওপরই রাজনৈতিক বাজি ধরে আসছে, বা অন্যভাবে বললে ‘ইনভেস্ট’ করে আসছে।”“কিন্তু শেখ হাসিনার পরে কে, বা আওয়ামী লীগে কার ওপর আমরা ভরসা রাখব সেটাও এখন আস্তে আস্তে জানা দরকার।” বিষয়টা যতদিন না স্পষ্ট করা হচ্ছে, ততদিন ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভেতরে একটা ‘অস্বস্তি’, ‘অনিশ্চয়তা’ বা ‘অধৈর্য ভাব’ কাজ করবে বলেও সাবেক ওই কূটনীতিবিদের বিশ্বাস। ভারতে ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ‘বাংলাদেশ অন আ নিউ জার্নি’ বইয়ের লেখক শ্রীরাধা দত্তও মানেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিসরে এটাকে একটা ‘ট্যাবু’ বা প্রায় নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়।“তার কারণ ভারত বা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যখনই কোনও বড় নেতা-নেত্রীর ‘সাকসেসন প্ল্যান’ বা উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, তখনই অনেকে ধরে নেন এতে বোধহয় তাকে সরে যাওয়ার জন্য ইঙ্গিত করা হচ্ছে”, বলছিলেন ড. দত্ত। কিন্তু সেই ভাবনাকে দূরে সরিয়ে রাখলেও শেখ হাসিনাকে এখন আস্তে আস্তে এই বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে বলে তার ধারণা।“বর্তমান মেয়াদের প্রথম আড়াই তিন বছর এটা নিয়ে হয়তো বিশেষ নড়াচড়া হবে না। কারণ ওই সময়কালটা খুব ‘ক্রিটিকাল’, ওইটুকু পথ পেরিয়ে যেতে পারলে সরকারের পুরো মেয়াদ শেষ করা নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন উঠবে না।”সেই উত্তরাধিকারী কে হবেন তা এখনই হয়তো বলা সম্ভব নয়, কিন্তু শেখ মুজিবের পরিবারের মধ্যে থেকেই যে কেউ সেই দায়িত্ব পাবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।“ভারতও সেই সম্ভাবনাটা ধরেই এগোচ্ছে এবং পরিবারের মধ্যে থেকে কেউ উত্তরাধিকারী হলে তাদের যে কোনও সমস্যা নেই সেটাও অনেক আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে”, বলছিলেন শ্রীরাধা দত্ত। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তার বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি নাড়াচাড়া হয়ে থাকে।এছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রেদোয়ান ববি সিদ্দিককেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রায়সময়ই দেখা যায়।

ঘটনাচক্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল গত সপ্তাহেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্বাচিত আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে তার কার্যভার গ্রহণ করেছেন। নেপালের দক্ষ ও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে এই পদে সাইমা ওয়াজেদের নির্বাচনে ভারতের একটা বড় ভূমিকা ছিল মনে করা হয়।তা ছাড়া হু-র এই আঞ্চলিক অধিকর্তার কার্যালয়ও দিল্লিতে অবস্থিত, ফলে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এখন অনেকটা সময় দিল্লিতেই কাটাবেন। ভারতের নেতা-মন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গেও তার অনেক বেশি মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ হবে। নিজের মেয়েকে যেভাবে শেখ হাসিনা এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্বে নিয়ে এলেন, তাতে ভারতীয় অনেক পর্যবেক্ষকেরই ধারণা তিনি সম্ভবত সায়মা ওয়াজেদকেই নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করতে চাইছেন। সেই জল্পনা সত্যি হবে কি না তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য অবশ্যই আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত দিল্লি ও ঢাকার আলোচনার সরকারি এজেন্ডাতে না-হোক, ঘরোয়া ও খোলামেলা কথাবার্তায় প্রসঙ্গটা রেখাপাত করবে অবধারিতভাবে। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*