শব্দ যন্ত্র হয়ে উঠেছিল যুদ্ধের হাতিয়ার

Posted by

প্রযুক্তি সময়: গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা, শত্রুপক্ষের উপকূলের দিকে তাক করে রাখা ১০ মিটার উঁচু একটি বিশাল লাউড স্পিকার দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের শহর জিয়ামেনের বাসিন্দাদের হালকা তাইওয়ানিজ গানসহ নানা ধরনের মিউজিক শোনানো হয়, কিংবা চীনা সৈন্যদের প্রতি পক্ষ পরিবর্তন করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তৃতা প্রচার করা হয়।

এটা হলো ‘বেইশান রিলে ওয়াল’ । যা ৪৮টি শক্তিশালী লাউড স্পিকার দিয়ে তৈরি বিশালাকৃতির একটি কংক্রিটের কাঠামো। যার আওয়াজ ২৫ কিলোমিটার দূরে, অর্থাৎ জিয়ামেনকে পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্যদিক থেকে চীনও একই কায়দায় এর পাল্টা জবাব দেয়।১৯৭৯ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন কমিউনিস্ট চীনকে স্বীকৃতি দেয় এবং এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় তখন পর্যন্ত অদ্ভুত এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছিল। এসব শব্দ দূষণে দুই তীরের বাসিন্দারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

১৯৬৭ সালে তাইওয়ানের ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছিল একটি নতুন অস্ত্র। আর সেটি ছিল তাইওয়ানের সবচেয়ে সুমধুর অস্ত্র, তাইওয়ানের হালকা গানের পপ তারকা তেরেসা টেং। তিনি পরিচিত ছিলেন এশীয় পপের শাশ্বত রানী শিরোপায়। তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশে তেরেসা টেং ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। তিনি কমিউনিস্ট নেতা দেন শিয়াওপিংয়ের প্রিয় গায়িকাদের অন্যতম ছিলেন বলে জানা যায়।বেইশা ব্রডকাস্ট ওয়াল থেকে যেসব গান বাজানো হতো তারমধ্যে তেরেসা টেং-এর কণ্ঠ ছিল বজ্রের মতো শক্তিশালী।

বেইশা ব্রডকাস্ট ওয়াল থেকে যেসব গান বাজানো হতো তারমধ্যে তেরেসা টেং-এর কণ্ঠ ছিল বজ্রের মতো শক্তিশালী।মারলিন ডিয়েট্রিচ বা মেরিলিন মনরোর মতো হলিউড তারকা, যারা যুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যদের উদ্দীপ্ত করার কাজে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন, তাদের মতোই তেরেসা টেং বিশাল লাউডস্পিকারের মাধ্যমে জিয়ামেনের বাসিন্দাদের প্রতি সরাসরি বক্তব্য রাখার জন্য বেশ কয়েক বার কিময় দ্বীপে গিয়েছিলেন। প্রতিবারই তিনি বলতেন যে জিয়ামেনের বাসিন্দাদের সাথে দেখা করার জন্য তিনি উন্মুখ হয়ে আছেন, এবং স্বাধীনতাই ছিল তাইওয়ানের একমাত্র আশা।

লিং মা-তেং যুদ্ধকালীন সময়ে তাইওয়ানের সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। কিময়ের ইতিহাসের ওপর তিনি পাঁচটি বই লিখেছেন। কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, চীন থেকে আসা শব্দ আর দ্বীপ থেকে আসা শব্দ মিলেমিশে শোনা যেত বজ্রের মতো জোরে। এই শোরগোল থেকে কোনো মুক্তি ছিল না। বিরতি ছাড়াই অনবরত মিউজিক শব্দ দূষণ তৈরি করেছিল। এসব মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত করে দিতো। যখন সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং তাইওয়ানের বাকি অংশ গণতন্ত্রে পরিণত হয় তখন পর্যন্ত এ ধরনের সম্প্রচার চলছিল।এসব সঙ্গীত আজও শোনা যায়, তবে লো ভলিউমে। শত শত পর্যটক, যাদের বেশিরভাগই চীনা, যারা দ্বীপটিতে বেড়াতে যান তারা এসব উপভোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*