ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লইস্কা বিলে বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবি, এখন পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার

Posted by

নুরুন্নাহার হিরা, সময় প্রতিদিন: ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৬ টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার একটি বিলে বালুবোঝাই একটি ট্রলারের সাথে সংঘর্ষে ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াা জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, গনমাধ্যমেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে বিজয়নগরের চম্পকনগর থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাটি সদর উপজেলার আনন্দবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে একটি বালুবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে নৌকাটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো অনেকে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুদের সংখ্যাই বেশী। মৃতদের আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ বিরাজ করছে ঘটনাস্থলে।নৌকার যাত্রী সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আঁখি আক্তার বলেন, ‘আমি, আমার স্বামী মুরাদ মিয়া, দুই ছেলে, শাশুড়ি, ভাসুরের তিন ছেলে বিজয়নগরের চম্পকনগর ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজার ঘাটে যেতে নৌকায় উঠি। নৌকায় শতাধিক যাত্রী ছিলো। নৌকা পথিমধ্যে লইস্কা বিলে এসে বালু বোঝাই ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। আমি ও স্বামী একটি ছেলেকে নিয়ে সাঁতরে বিলের কিনারে আসতে পারলেও তার আরেক ছেলে, শাশুড়ি ও ভাসুরের তিন ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।হাসপাতালে আহত মুরাদ মিয়া বলেন, হঠাৎ ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নৌকা ডুবে যায়। তারপর অনেক কষ্টে এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সাঁতরে উপরে উঠতে পারি। আমার ছেলে, মা ও তিন ভাতিজা এখনও নিখোঁজ রয়েছে।নৌকায় থাকা যাত্রী মোহাম্মদ রাফি বলেন, আমি নৌকার ছাদে বসেছিলাম। বিজয়নগরের চম্পকনগর নৌকাঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় নৌকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আনন্দ বাজার ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। নৌকা লইস্কার বিলে আসলে বালু বোঝাই ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। আমি ঝাঁপ দিয়ে পানিতে পড়ে সাঁতরে উপরে উঠি। রাফি আরও বলেন, নৌকার নিচে ও উপরের শতাধিক যাত্রী ছিলো।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এখনও নৌকাটি উদ্ধার করা যায়নি। হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে জানান পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*