নাটোরের বিশেষ সংবাদ

Posted by

নাটোরে দুই কৃষককে গাছে বেঁধে পেটালেন ইউপি সদস্য

নাটোরের সিংড়ায় গরু ফসল নষ্ট করায় বেলায়েত (৬০) ও শাহাদত (৭০) নামে দুই কৃষককে আটকে রেখে গাছের সাথে বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছেন মোখলেছ আলী নামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সিংড়া উপজেলার শালমারা-বাঁশবাড়িয়া মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এসময় ওই দুই কৃষকের ১১টি গরু জোর করে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে কৃষক বেলায়েত ও শাহাদতের ১১টি গরু স্থানীয় ইউপি সদস্য মোখলেছ আলীর আমন ধানের ক্ষেতে প্রবেশ করে ফসল নষ্ট করে। এই ঘটনায় ওই ইউপি সদস্য ও তার লোকজন ওই দুই কৃষকের ১১টি গরু আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে ওই দুই কৃষক ঘটনাস্থলে গেলে ইউপি সদস্য ও তার লোকজন তাদেরকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি সদস্য মোখলেছ ওই দুই কৃষককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মকলেছ আলী জানান, বেলায়েত ও শাহাদতের ১১টি গরু আমার জমির ফসল নষ্ট করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। এসময় লাঠি দিয়ে ২/১ আঘাত করার কথা স্বীকার করেন তিনি।বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুরবান আলী জানান, ঘটনাটি জানার পর আমি মকলেছ মেম্বারকে ফোন করে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইটালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, বিষয়টি শুনেছি। পরে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর-এ আলম সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী কৃষকেরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকার লোভে ভাগ্নেকে অপহরণ করে মামা \ মামা আটক
টাকার লোভে আট বছর বয়সী ভাগ্নে আলহাজ্বকে অপহরণ করে মামা কামরুল(২৫)। অপহরণের পরে তার সহযোগী জেল খানা পরিচিত বন্ধু রুবেলের হাতে তুলে দেয় কামরুল। পরে কামরুল ও রুবেল অপহৃতের বাবা নাটোরের বড়াইগ্রামের বাগডোব এলাকার বাসিন্দা আক্তার প্রামানিকের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণকারীদের আটক করতে রুবেলের অন্তস্বত্ত¡া স্ত্রীকে পুলিশি জিম্মায় নিয়ে অভিযান চালিয়ে অক্ষত অবস্থায় শিশু আলহাজ্বকে উদ্ধার করে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংকালে এমন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা আরো বলেন, অল্প সময়ে ধনী হতে নাটোরের বড়াইগ্রামের লক্ষীকোল এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে কামরুল তার বন্ধু বগুড়ার দুপচাচিয়ার বাসিন্দা রুবেলের সাথে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ আগস্ট সকালে কামরুল তার নিজস্ব ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার(রেজিঃ নং ঢাকা মেট্রো-গ ১১-২৬৭৬) নিয়ে নিজ বাড়ীর সামনে থেকে নতুন কাপড় ও চকলেটের লোভ দেখিয়ে আলহাজ্বকে অপহরণ করে কামরুল। পরে ওইদিনই কামরুল সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় এলাকায় ঢাকা থেকে আসা রুবেলের কাছে আলহাজ্বকে তুলে দিয়ে বাড়ী ফিরে আসে।এদিকে আলহাজ্ব অপহৃত হওয়ার পরে অপহৃতের বাবা আক্তার প্রামানিক বড়াইগ্রাম থানায় এজাহার দাখিল করলে উদ্ধার কাজে নামে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল এলাকা থেকে গত ২২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে অপহৃতের চাচাতো মামা কামরুলকে আটক করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বগুড়ার দুপচাচিয়ায় রুবেলের স্ত্রী আকলিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে আকলিমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় রুবেলের শ্বাশুড়ীর অবস্থান নির্ণয় ও তার বাসা থেকে অপহৃত আলহাজ্বকে কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে রুবেল অভিযানের আগেই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। উদ্ধারের পর শিশু আলহাজ্বকে ঢাকার রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাশেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রুবেলকে দ্রæত আটক করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।উল্লেখ্য, রুবেল আন্তর্জাতিকমানের একজন ডাকাত সদস্য এবং তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।প্রেসব্রিফিংকালে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাদিাস রায়,নাটোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*