মুন্সিগঞ্জে স্ত্রী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের পুর্বে স্বামী গ্রেফতার

Posted by

মহসিন রেজা,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে যৌতুকে দাবীতে স্ত্রী নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালের পুর্বেই স্বামীকে গ্রেফতার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।আসামীর বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় নারী- শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের কাজীরবাগ গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে মোঃ মুরাদ শেখ (৪০)কে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় উঠে।

নির্যাতিতা স্ত্রী মোছাঃ হালিমা বেগম জানান কাজীরবাগ গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে মোঃ মুরাদ শেখের সাথে আমার ১৩ বছর পুর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয় এবং আমাদের সংসারে দুইটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহ পর আমার বাপে বাড়ি হইতে যৌতুকের ২ লক্ষ টাকা আনিয়া দিতে বলে। আমি যৌতুকের টাকা আনিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে আমার স্বামী আমাকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে। আমি আমার সংসার ও মেয়েদের কথা চিন্তা করে আমার স্বামীকে আমার বাবার নিকট হইতে আনিয়া দেই। পরবর্তীতে আমার স্বামী ১ আগষ্ট আরো ১ লক্ষ টাকা আনিয়া দিতে বলে আমি আনিয়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে আমার স্বামী আমাকে মারার জন্য আগাইয়া আসিলে আমি ভয়ে জনৈক রতন কাজীর ঘরে আশ্রয় নিলে আমার স্বামী রতন কাজীর ঘর হইতে টানিয়া বাহির করিয়া রতন কাজীর ঘরের সামনে ফাঁকা জায়গায় চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় কোপ মারিলে উক্ত কোপে আমার কপালে লাগিয়া লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আমি মাটিতে পরিয়া গেলে আমাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুসি লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। আমার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশী আগাইয়া আসিলে আমি আমার স্বামীর নির্যাতন হতে রক্ষা পাই। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই।

এবিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে গৃহবধুকে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে স্বামীকে গ্রেফতার করি। এ ঘটনায় ভিকটিম গৃহবধু হালিমা বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*