স্বামী কে হত্যার অপরাধে পরকীয়া প্রেমসহ স্ত্রী আটক

Posted by

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন , লালমনিরহাট: অবশেষে কাঁচামাল ব্যবসায়ি জলিলের হত্যার জট খুলেছে পুলিশ। বড়ভাইয়ের সন্দেহ সঠিক হয়ে গেল। পরকীয়া প্রেম গোলাম রব্বানী (২৮) ও নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগম(২৮) কে পুলিশ আটক করে বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হত্যা হায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই রাতে লালমনিরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া মহল্লার কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল কে তার স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী যোগসাজোসে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। পরদিন ভোরে এই মৃত্যুকে ঘুমের মধ্যে হাডএ্যাটাকে মারা গেছে বলে চালিয়ে দেয়। সেই সাথে স্বজনদেও না জানিয়ে তড়িঘরি করে কবরস্থ করার ব্যবস্থা করে। ছোট ভাইয়ের মৃত্যর খবর লোক মুখে পেয়ে দাফন করতে বড়ভাই আব্দুর রশিদ সেখানে যায়। লাশের গোসল শেষে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা অবস্থায় নাকে-মুখে রক্তের দাগ ও পিঠে আঘাতের দাগ দেখতে পায়। সেখানে জানতে পাওে লাশের গোসল গোলাম রব্বানী করিয়েছে। বিষয়টি আরো সন্দেহ হয়। হত্যার শিকার জকাঁচামাল ব্যবসায়ি জলিল লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের খুনিয়াগাছ গ্রামের শাহার আলীর ছেলে । সদ্য বিধাব হওয়া নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগমের আচরণে নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। স্বামী শোকের কোন ছায়া এই দুই কন্যা সন্তানের জননীর মধ্যে ছিলনা। যতটা সন্তানদের মধ্যে ছিল। গত ২৪ জুলাই বিকালে মরহুমের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্ত্রী। সেখানে নিহতের স্ত্রীর সাথে ভাসুরের বচসা দেখা দেয়। এই ঘটনার জের ধরে ছোটভাই কে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে হত্যা করা হয়েছে এসপি অফিসে অভিযোগ করে। শেষ পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে স্ত্রী ও স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে মঙ্গলবার আটক করা হয়। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার দায় স্বীকার করে। লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান জানান, এভাবে পুলিশ একটি কুলুলেস মামলার মোটিভ উদ্ধার করেছে। লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইইনচার্জ শাহা আলম জানান, আটককৃত প্রেমিকা ও নিহতের স্ত্রী উভয়েই হত্যঅর দায় স্বীকার করেছে। তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেখানে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তকর্মকতা এসআই সাদ্দাম হোসেন ।জেলা সদরের খুনিয়াগাছ গ্রামের শাহার আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় ৮বছর আগে সাপটানা মাঝাপাড়া মহল্লায় স্ত্রীসহ বসবাস শুরু করে। এ সময় একই উপজেলার মহেন্দনগর ইউপির ঢঢ গাছ গ্রামের রমজান আলীর পুত্র তিনদীঘি বাজারের ঔষধ দোকানের মালিক গোলাম রব্বানীর দোকানে ঔষধ কিনতে যাওয়া আসায় মমিনা বেগমের সাথে পরকীয়া প্রেমে গড়ে উঠে। সেই কারনে গত ২২ জুলাই রাতে জলিলকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*